শুক্রবার, ৬ এপ্রিল, ২০১২

রামুতে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণে ব্যাপক আনন্দায়োজন

রামু নিউজ প্রতিবেদক ॥
কক্সবাজারের রামু উপজেলার সকল বৌদ্ধমন্দিরকে ঘিরে বড়ুয়া ও রাখাইন গ্রামে চৈত্র সংক্রান্তির সাথে বাংলা নববর্ষ বরণের ব্যাপক আনন্দায়োজন শুরু হয়েছে। এ আয়োজন আনুষ্ঠানিতকা পাবে চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস জুড়ে। এ উপলক্ষে বিন্নি ধানের খই, নাড়ু, জিরা, পাপর,পায়েস,আঁচারসহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার ও পিঠা পায়েস তৈরীর ধুম পড়েছে। সে সাথে ঘর সাজাঁনো এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত পাড়ার গৃহিনীরা। এছাড়া বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে চলছে বর্ষসংক্রান্তি দিনের বুদ্ধ স্নান ও বৈশাখের ব্যুহচক্র মেলা,স্বর্গপূরী উৎসব উপলে সাজ সজ্জার নানা আয়োজন।   
রামু উপজেলার বৌদ্ধনেতা,রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সাধারণ সম্পাদক তরুন বড়ুয়া জানান- প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় বাংলা সনের চৈত্র মাস আসার সাথে সাথে পাড়ায় পাড়ায় বৌদ্ধ নর-নারী ও শিশু কিশোরদের মাঝে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। দিন দিন এ আমেজের মাত্রা বাড়তে থাকে। ঘরে ঘরে গৃহিনীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন,সুস্বাধু ও আধুনিক খাবার তৈরীতে। এছাড়াও বাড়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা,এবং বিয্যু ফুলে ঘর সাজানোর আয়োজন,পরিবারের সদস্যদের নতুন কাপড় কেনার ধুম।
বাংলা বছরের শেষ অর্থ্যাৎ চৈত্র সংক্রান্তি উপলে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে মেরংলোয়া গ্রামেও। এ আয়োজনের আহবায়ক পলক বড়ুয়া আপ্পু জানান-এ বছরও বিগত বছরগুলোর ন্যায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের মাঠে বসবে চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান “আনন্দ মেলার হাউসফুল”। দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে-লুডুর গাছ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, গ্রামীন খেলাধুলা, লোকজ গানের আসর ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে গাপলের মেলা। রামুর প্রয়াত সংগীত শিল্পী,ওস্তাদ রায়মোহন বড়ুয়া ও বিনয় বড়ুয়ার স্মৃতির প্রতি এ অনুষ্ঠান উৎসর্গ করা হবে। 
বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ট ফেডারেশন রামু শাখার সহ সভাপতি দুলাল বড়ুয়া জানান,চৈত্র সংক্রান্তির দিন সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বুদ্ধ স্নান উৎসবে মেতে ওঠে রামুর বৌদ্ধ শিশু-কিশোর,যুব নারী পুরুষরা। তারা মঙ্গল ঘটে জল নিয়ে  দল বেঁধে ঢাক-ঢোল, কাসঁর, মন্দিরাসহ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গাড়ী শোভাযাত্রা ও পায়ে হেঁটে এক বিহার থেকে অন্য বিহার,এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে বুদ্ধ স্নানে মেতে ওঠে। এ সময় মাইকে ধ্বনিত হয় “বুদ্ধং শরনং গচ্ছামি,ধম্মং শরনং গচ্ছামি,সংঘং শরনং গচ্ছামি”। পরিবেশিত হয় “বুদ্ধ বল বলরে, বুদ্ধের মতন এমন দয়াল আর নাইরে” এ রকম বেশকিছু বুদ্ধর্কীতন। পরম পূজনীয় বুদ্ধমূর্তির শরীরে দুধ-চন্দন মিশ্রিত মঙ্গল জল ঢেলে স্নান করানোর সময়  উচ্চারণ করেন ‘সাধু .. সাধু.. সাধু’ ধ্বনি। ভোর থেকে সকাল এগারটা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।
রামু বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নীলোৎপল বড়ুয়া জানান-চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের দিন গ্রামের শিশু-কিশোর এমনকি বয়স্করাও নতুন কাপড় পড়ে বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে ভিক্ষু সংঘকে প্রনাম করে শীল গ্রহন করেন। সে সাথে এ বাড়ি ওবাড়ি গিয়ে জ্যেষ্টদের পায়ে ধরে প্রনাম করে আর্শিবাদ নেয়। এ সময় তাদেরকে চৈত্র সংক্রান্তি ও নতুন বছরের  খাবার দিয়ে আপ্যয়ন করানো হয়। এছাড়া বড়রা ছোটদেরকে সালামীও (টাকা) দিয়ে থাকে।
উত্তর মিঠাছড়ি প্রজ্ঞামিত্র বন বিহারের অধ্য ভদন্ত সারমিত্র মহাথের জানান,বাংলা নববর্ষের প্রথম সপ্তাহে এ বিহারে স্বর্গপূরী উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে। আগামী বছরও এ অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এলাকার মুসলিম,বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সুষ্ট ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয় স্বর্গপুরী উৎসব। স্বর্গপূরী উৎসব উৎসর্গ করা হবে বিহারের প্রয়াত অধ্য ও গ্রাম বাসীর ধর্মগুরু ভদন্ত প্রজ্ঞামিত্র মহাথের মহোদয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।  
সম্রাট অশোকের স্মৃতি বিজড়িত “রাংকুট বনাশ্রম” বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ বড়ুয়া জানান,এ বিহারকে ঘিরে বাংলা নববর্ষের শুরুতে “রাংকুটের মেলা” নামে একটি অনুষ্ঠান ধারাবাহিক ভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। এ বছরও অনুষ্ঠান উপলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে
          রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল বলেন, কক্সবাজারের রামু উপজেলা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম পূণ্যভূমি। এ উপজেলাকে রম্যভূমিও বলা হয়। চৈত্র সংক্রান্তি বা নববর্ষ বরণে বৌদ্ধদের আয়োজন অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও সমান ভাবে উপভোগ করে। ওই সময়টা বৌদ্ধ, মুসলমান, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন একে অপরের বাড়ী গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে,কুশলাদি আদান প্রদান করে। এক কথায় চৈত্র সংক্রান্তি, বর্ষবরণ ও বৈশাখ মাসে বৌদ্ধদের আয়োজনকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সফল করা হয়।    

এক সপ্তাহে ১২ টি উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা অনুমোদন দীর্ঘ ১১ মাস পর কক্সবাজারে নকশা অনুমোদন দেয়া শুরু

মহসীন শেখ॥   দীর্ঘ এগার মাস পর কক্সবাজারে নকশা অনুমোদন দেয়া শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানীর ১২ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ...