রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১২

প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে ভরপুর খাগড়াছড়ি

॥ অর্পন বড়ুয়া ॥
উঁচুনীচু পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ ও সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলা। বিধাতার সৃষ্টি অপূর্ব প্রাকৃতির সৌন্দর্য্য ও দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ পিপাষু যে কাউকে মোহিত করবে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য বাংলাদেশের
যে কোন স্থান থেকে যে কেউ এখানে পাড়ি জমাতে পারেন।
২৭ মার্চ বিকেল ৩ টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার সামনে লোকাল বাসে উঠে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। লোকাল বাসে খাগড়াছড়ি সদর-আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ভাড়া ১০ টাকা। আলুটিলার আঁকাবাঁকা উঁচুনীচু দূর্গম পাহাড়ী পথ অতিক্রম করতেই জিরোমাইল এলাকায় সড়কের ডান পাশে অবস্থিত অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহারের দৃষ্টিনন্দন ৩৭র্  ফুট উঁচু স্বর্ণালী রং এর বুদ্ধমূর্তি দেখে দু’নয়নে আকৃষ্ট হয়। ৫ মিনিট পর আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছি। গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়ে আলুটিলার সেই ঐতিহাসিক বটমূল। যেখানে লেখা রয়েছে ‘‘ক্লান্ত পথিক ক্ষনিক বসিও আলুটিলার বটমুলে; নয়ন ভরিয়া দেখিও মোরে চেঙ্গি নদীর কুলে’’। জনশ্রুতি রয়েছে আলুটিলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে ঐতিহাসিক উক্তিটি লিখেছিলেন তৎকালীন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ইয়ার মোহাম্মদ।
কাউন্টার থেকে ৫ টাকা টিকিট কেটেই প্রবেশ করি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে। প্রবেশ পথের ডান পাশের পথ দিয়ে হেটে যেতে থাকি। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় ঢাকা তিতুমির কলেজের ইসলামী ইতিহাস ১ম বর্ষের ছাত্র রিয়াদুল হাসানের সাথে। রিয়াদুল ঢাকা ৫২৫ তেজগাঁও, নাখাল পাড়া এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। দু’জনেই পর্যটন স্পট ঘুরে দেখি। চলার পথে এগুতেই চোখে পড়ে দেওয়ালে লিখা পংক্তিমালা- 
‘‘আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে
ঝরণা ধারার গান
না জানি কেনরে এতদিন পর
জাগিয়া উঠিল প্রাণ’’

পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহা। ঐতিহাসিক এ গুহাটির দুরত্ব্ আনুমানিক ১০০ গজ। আলোর মশাল জ্বলিয়ে পাথরের এ রহস্যময় গুহার এক পথ দিয়ে ঢুকে অন্য পথ দিয়ে বের হওয়া যায়। ১০ টাকা দামের আগুনের আলোর মশাল কিনে নিই। এ মশালটি জ্বালাতেই শরীরের লোমকোপগুলো খাড়া হয়ে যায়। মূহুর্তেই ভৌতিক সুরের আমেজ অনুধাবন করি। সাহসীকতায় দু’জনেই গুহায় প্রবেশ করলাম। যেন এক দুঃসাহসীক কাহিনী অবিস্কার করার মত। মশাল হাতে নিয়ে নগ্ন পায়ে হেটে পাথরের এ গুহা থেকে বের হয়ে নিজেকে মুক্ত করি।
এরই মধ্যে পরদিন জিরোমাইল এলাকায় অবস্থিত অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহারের বিশাল ৩৭র্  ফুট উঁচু সোনালী রং এর ধ্যানমগ্ন গৌতম বুদ্ধমূর্তি, উল্টাছড়ি বিহার পাড়ায় ধুতাঙ্গসাধক অরহর্ৎ শীলানন্দ স্থবিরের ধ্যান কুঠির, পরিনির্বাণপ্রাপ্ত অরহর্ৎ সাধনানন্দ মহাস্থবিরের আর্য্যবন বিহার, আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহারের নান্দনিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করি। এছাড়া 
পৌরসভা সংলগ্ন শাপলা চত্বর, শহীদ জিয়া ভাস্কর্য, এনএন লারমা ভাস্কর্য দেখতে পাই।
খাগড়াছড়ি জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। তাদের প্রধান পেশা কৃষি। জুম চাষ, বিভিন্ন শাকসবজির চাষাবাদ, পশু পালন, কলা বাগান, ভুট্টা চাষ তথা কৃষি কাজ করেই তাদের জীবন চলে।
দেশের যে কোন স্থান থেকে রওয়ানা হয়ে চট্টগ্রাম নামবেন। পরে অক্সিজেন মোড়ে অবস্থিত খাগড়াছড়ির শান্তি পরিবহনে ১৭০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটতে হবে। তবে মনে রাখবেন দূর্ঘটনা প্রবণ দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চল হওয়ায় রাত ৮ টার পর খাগড়াছড়ির শান্তি পরিবহন চলাচল করে না। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ির দুরত্ব ৯০ কি.মি.।

এক সপ্তাহে ১২ টি উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা অনুমোদন দীর্ঘ ১১ মাস পর কক্সবাজারে নকশা অনুমোদন দেয়া শুরু

মহসীন শেখ॥   দীর্ঘ এগার মাস পর কক্সবাজারে নকশা অনুমোদন দেয়া শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানীর ১২ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ...