
॥ রামু নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ॥
খুব কাছ থেকে ম্যাচ হেরে যাওয়ায় ভীষণভাবে মর্মাহত হলেও হতাশ নয় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাত্র ২ রানের পরাজয় যেন অমিত সম্ভাবনারই ভিত রচনা করে দিয়েছে। তাই তো খেলা শেষেও স্টেডিয়াম এলাকা থেকে যেন পা সরতে চাইছিলো না ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকদের। ১২ বছর পর এশিয়া কাপ জয় করে আনন্দে ভাসছে পাকিস্তান; কিন্তু বিশ্ব
ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হেরে গেছে সত্যি, তবু এই হার আসলে নতুন এক স্বপ্নের জয়। নতুনভাবে এগিয়ে নেয়ার প্রেরণায় উজ্জীবিত এই এশিয়া কাপের রানার্সআপ দলটি। নতুন করে ক্রিকেট সাম্রাজ্য তো সাকিবদেরই শাসন করতে হবে। তাই তাদের হতাশ হলে চলবে না। ক্রিকেট বিশ্বে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের এ সাফল্য ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের এ অর্জন নিয়ে অনেকেই চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে বলেছেনÑ বাংলাদেশের ক্রিকেট এখান থেকেই নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলো। এবার আমাদের জয় রথ শুরু হবে। আশা করি আমাদের এরকম পারফরমেন্স অব্যাহত থাকবে। অনেকেই আবার বিপিএলকে কৃতিত্ব দিতে চান। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সেই এপ্রোচ তার সবটুকুই বিপিএলের কারণে। দলের কোচ স্টুয়ার্ট ল শীষ্যদের প্রশংসাই করলেন। তিনি বললেনÑ শেষ তিনটি খেলায় প্রমাণ করেছি বিশ্বের যে কোনো দলকে হারানোর মতো প্রতিভা আমাদের আছে। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির ইতিবাচক দিক সম্পর্কে বুঝতে শিখেছে। খুবই ভালো করেছে। পুরোপুরি পেশাদার ছিলো তারা। প্রধান নির্বাচক আকরাম খান সাকিবদের পারফরমেন্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, এশিয়া কাপে বাংলাদেশ যে ক্রিকেট খেলেছে তা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন মনে রাখবে। আমি বলেছিলাম ধারবাহিকভাবে খেলছে ক্রিকেটাররা। তাদের এই ধারাবাহিকতাই আশা জাগিয়েছিল শিরোপার। আমরা এই এশিয়া কাপে সব কিছুই অর্জন করেছি, শুধু একটি চ্যাম্পিয়ন ট্রপি ছাড়া। আমি বলবোÑ বাংলাদেশের ক্রিকেটের এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ক্রিকেটে ২ রানে হেরে যাওয়ায় কোনো কষ্ট নেই। আমাদের অর্জন অনেক। আমরা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে পেরেছি যে, আমরা অনেক কিছু পারি। বাংলাদেশ একটা সেরা দলÑ এটা প্রমাণিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জেতা যে অসম্ভব নয়Ñ এটা গতকালের খেলায় প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেন, আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম, তখন শুধুই হারতাম। আমি ছিলাম হারু পার্টির লিডার। আর এখন সেই বাংলাদেশ আর নেই। এই এশিয়া কাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তন হয়ে গেলো। এখন থেকে সাকিব-তামিমরা ক্রিকেট বিশ্বে আদিপত্য বিস্তার করবে।সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, আমরা পুরো এশিয়া কাপে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সাকিবের এখন এই ধারবাহিকতা ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, এখান থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নবজাগরণ সৃষ্টি হবে। যেখানে আগে দুই-একটি ভালো ইংনিস হতো আর এখন দলের সবাই প্রায় সমানভাবে কন্ট্রিবিউশন করছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াশে বাংলাদেশ দল সামনের দিকে এগিয়ে যাবেÑ এই প্রত্যাশাই করছেন ক্রিকেট ভক্তরা। এমন কথাই বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। এছাড়া সাধারণ ভক্তরাও ক্ষুদ্ধ না বাংলাদেশের পরাজয়ে। পরাজয়ের প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে সম্ভাবনার গানই শোনা গেলো আপামর জনতার মুখে মুখে। সঙ্গে অল্প-স্বল্প আপসোসও। তারপরও বাংলাদেশ দলের খেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করার মতো কাউকে পাওয়া গেলো না স্টেডিয়াম এলাকায়। মতিঝিল থেকে স্কুলপড়-য়া ছেলেকে নিয়ে খেলা দেখতে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা শায়েম চৌধুরী। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমরা জয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছিলাম। অল্পের জন্য জিততে পারিনি; কিন্তু বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছে। এ হার আসলে হার না। মাত্র ২ রানের পরাজয়ে আগামী জয়ের ভিত গড়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় কথাÑ গোটা টুর্নামেন্টেই দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ। বাবার হাত ধরে থাকা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রাকিব বললেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলাম, তা পূরণ হয়নি। তবে বাংলাদেশ অনেক সাহসিকতার সঙ্গে খেলেছে। লড়াই করে হেরেছে; আমরা খুশি। চাকরিজীবী আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাদেশ এশিয়া কাপে যে পর্যায়ে এসেছে তাতে আমরা খুব আশাবাদী। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ধারাবাহিক ভালো খেলার যে নজির গড়েছে তা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে। সবাই আশাবাদী আমাদের ক্রিকেটের সাফল্য নিয়ে। বাংলাদেশ হেরে গেছে; কিন্তু কিছু একটা জয় করে সবার দৃষ্টি নিয়ে গেছে অন্য প্রান্তে। সবাই এখন অন্য বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা কি পারবে সবার প্রতাশ্যা-চাপ সইতে?
