॥ মহসীন শেখ, কক্সবাজার ॥
বাঁকখালী নদী কক্সবাজার শহরের একসময়ের প্রাণ। শহরবাসীর এ প্রাণ ভরাট হয়ে নদীটি এখন শহরবাসীর দুঃখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সেই বাঁকখালীকে নতুনরূপে সাজাতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।ইতালির ভেনিস শহরের একটি সাগর চ্যানেলের মতো বাঁকখালী নদীর দুই তীরে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে ইকো-ট্যুরিজম, পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র, শিশুপার্ক, দৃষ্টিনন্দন রেস্তোরাঁ-কটেজ স্থাপনা।
এ ছাড়া থাকবে সাগর ও নদী ভ্রমণের ব্যবস্থা।
পর্যটনকেন্দ্র তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি ফেব্র“য়ারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারীর নেতৃত্বে কক্সবাজার পর্যটন সেলের একটি দল শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে চান্দেরপাড়া রাবার ড্যাম পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করেন।
ওসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমীর আবদুল¬াহ মো. তাহের, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এস এম আলমগীর, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল আলম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন,কয়েক বছর আগে ইতালি সফরে গেলে ভেনিস শহরের দৃষ্টিনন্দন সাগর চ্যানেলটি আমাকে মুগ্ধ করে। চ্যানেলের দুই তীরকে পর্যটকদের রাত যাপন ও বিনোদনের জন্য সাজানো হয় আকর্ষণীয়ভাবে। এখানে প্রতিদিন বসে হাজারো পর্যটকের মিলনমেলা। আর আয়ও হচ্ছে প্রচুর।
তিনি বলেন,ভেনিস শহরের ওই সাগর চ্যানেলের মতো বাঁকখালী নদীর দুই তীরকেও দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো যায়। নদী ও সাগর চ্যানেলে কয়েক ঘণ্টার নৌভ্রমণ সার্ভিস, পানিতে ভাসমান রেস্তোরাঁ, তীরে পরিবেশবান্ধব হোটেল, মোটেল, কটেজসহ নানা বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা যায়। ইকো-ট্যুরিজম পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সবটুকুই এখানে রয়েছে। কিন্তু আমরা সেই স¤পদকে কাজে লাগাতে পারছি না।
জেলা প্রশাসক বলেন,আমরা এই বাঁকখালী নদী অন্যভাবে সাজানোর চেষ্টা করছি।
বিশেষ করে পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে এ উদ্যোগ। নদীকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হলে লোকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তখন সরকারি তহবিলে জমা হবে মোটা অঙ্কের টাকা।
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
দুই তীরে এক হাজার দখলদার : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জসিম উদ্দিন জানান, বাঁকখালী নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ট্যুরিস্ট পলি¬ ও বিনোদন ক্ষেত্র তৈরি করতে হলে আগে নদীর দুই তীরে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবকাঠামো উচ্ছেদ করতে হবে।ইতিমধ্যে আমরা নদীর নুনিয়াছটা থেকে চান্দেরপাড়া রাবার ড্যাম পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক হাজার অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছি। এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ নোটিশও পাঠানো হয়েছে।এরপর অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া না হলে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বাঁকখালী নদীকে দখলমুক্ত করবে।
বাঁকখালী নদী পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, নদীর বিভিন্ন অংশে সরকারি জমি দখল করে তাতে অসংখ্য ভবন, চিংড়ি প্রকল্প, লবণমাঠ, ডকইয়ার্ড, বাসাবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এসব উচ্ছেদ করা হবে।
প্রয়োজন নদীর খনন: কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, কক্সবাজারের প্রাণ নামে পরিচিত এই বাঁকখালী নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এটি শহরের তিন লাখ মানুষের কাছে দুঃখ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ৩০ বছর ধরে এই নদীর খননকাজ বন্ধ রয়েছে।এর ফলে বর্ষার সময় পুরো শহরে জলাবদ্ধতা যেমন দেখা দেয়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে পানীয় জলের তীব্র সংকট সৃষ্টি করছে। কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পাঁচ-ছয় হাজার মাছ ধরার ট্রলার এই নদীতে আশ্রয় নিতে পারে না। নদীর বুকে একাধিক ডুবো চর সৃষ্টি হওয়ায় রাতের বেলায় নৌচালাচল বন্ধ রাখতে হয়।
এ ছাড়া থাকবে সাগর ও নদী ভ্রমণের ব্যবস্থা।
পর্যটনকেন্দ্র তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি ফেব্র“য়ারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারীর নেতৃত্বে কক্সবাজার পর্যটন সেলের একটি দল শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে চান্দেরপাড়া রাবার ড্যাম পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করেন।
ওসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জসিম উদ্দিন, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমীর আবদুল¬াহ মো. তাহের, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এস এম আলমগীর, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিবুল আলম প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন,কয়েক বছর আগে ইতালি সফরে গেলে ভেনিস শহরের দৃষ্টিনন্দন সাগর চ্যানেলটি আমাকে মুগ্ধ করে। চ্যানেলের দুই তীরকে পর্যটকদের রাত যাপন ও বিনোদনের জন্য সাজানো হয় আকর্ষণীয়ভাবে। এখানে প্রতিদিন বসে হাজারো পর্যটকের মিলনমেলা। আর আয়ও হচ্ছে প্রচুর।
তিনি বলেন,ভেনিস শহরের ওই সাগর চ্যানেলের মতো বাঁকখালী নদীর দুই তীরকেও দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো যায়। নদী ও সাগর চ্যানেলে কয়েক ঘণ্টার নৌভ্রমণ সার্ভিস, পানিতে ভাসমান রেস্তোরাঁ, তীরে পরিবেশবান্ধব হোটেল, মোটেল, কটেজসহ নানা বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা যায়। ইকো-ট্যুরিজম পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সবটুকুই এখানে রয়েছে। কিন্তু আমরা সেই স¤পদকে কাজে লাগাতে পারছি না।
জেলা প্রশাসক বলেন,আমরা এই বাঁকখালী নদী অন্যভাবে সাজানোর চেষ্টা করছি।
বিশেষ করে পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে এ উদ্যোগ। নদীকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হলে লোকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তখন সরকারি তহবিলে জমা হবে মোটা অঙ্কের টাকা।
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
দুই তীরে এক হাজার দখলদার : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জসিম উদ্দিন জানান, বাঁকখালী নদীকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ট্যুরিস্ট পলি¬ ও বিনোদন ক্ষেত্র তৈরি করতে হলে আগে নদীর দুই তীরে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবকাঠামো উচ্ছেদ করতে হবে।ইতিমধ্যে আমরা নদীর নুনিয়াছটা থেকে চান্দেরপাড়া রাবার ড্যাম পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক হাজার অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করেছি। এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ নোটিশও পাঠানো হয়েছে।এরপর অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া না হলে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বাঁকখালী নদীকে দখলমুক্ত করবে।
বাঁকখালী নদী পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, নদীর বিভিন্ন অংশে সরকারি জমি দখল করে তাতে অসংখ্য ভবন, চিংড়ি প্রকল্প, লবণমাঠ, ডকইয়ার্ড, বাসাবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এসব উচ্ছেদ করা হবে।
প্রয়োজন নদীর খনন: কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, কক্সবাজারের প্রাণ নামে পরিচিত এই বাঁকখালী নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এটি শহরের তিন লাখ মানুষের কাছে দুঃখ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ৩০ বছর ধরে এই নদীর খননকাজ বন্ধ রয়েছে।এর ফলে বর্ষার সময় পুরো শহরে জলাবদ্ধতা যেমন দেখা দেয়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে পানীয় জলের তীব্র সংকট সৃষ্টি করছে। কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পাঁচ-ছয় হাজার মাছ ধরার ট্রলার এই নদীতে আশ্রয় নিতে পারে না। নদীর বুকে একাধিক ডুবো চর সৃষ্টি হওয়ায় রাতের বেলায় নৌচালাচল বন্ধ রাখতে হয়।
